Dear member/visitor! Welcome to WapMet.com
0 votes
16 views
in Admin Notice by (173 points)
এসএসসির বিদায়ী ভাষণ ২০২২.
follow WapMet on google news

1 Answer

0 votes
by (173 points)
নিচে বিদায়ী ভাষণটি দিয়ে দিচ্ছি, আপনারা নিজের মতো করে পুনরায় প্রয়োজন মত সংশোধন করে নিতে পারবেন।
উত্তরা মডেল উচ্চ বিদ্যালয় (এখানে আপনার বিদ্যালয়ের নাম) কর্তৃক আয়োজিত এস.এস.সি পরীক্ষার্থী ব্যাচ 2022 এর বাৎসরিক বিদায় অনুষ্ঠানের মঞ্চে উপবিষ্ট প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি এবং শ্রদ্ধেয় প্রধান শিক্ষক, অন্যান্য শিক্ষক মন্ডলী, অভিভাবকসহ আমার সামনে উপস্থিত সহপাঠী ও ছোট-বড় ভাই,বোন সকলের প্রতি রইল আমার আন্তরিক অভিনন্দন ও সালাম "আসসালামু আলাইকুম।" দোলনায় দোল খেতে খেতে কিংবা সময়ের সাথে পাল্রা দিয়ে বেড়ে ওঠা আমাদের শৈশবের তেমন কিছুই আজ মনে নেই।পথের ধারের সেই প্রাইমারি স্কুল আজো দাঁড়িয়ে আছে আগের মতোই।কিন্তু আমি তো আর নেই সেই স্কুলটাতে, স্রোতের টানে হারিয়ে ফেলেছি শৈশবের সেই সোনালী অধ্যায়টুকু।তখনকার অনেক কিছুই তেমন মনে পড়ে না।শত হারানোর ব্যাথার রেশ কাটিয়ে পেয়েছিলাম জীবনের আরেক নতুন অধ্যায়।কিন্তু সময়ের স্রোতে আজ দাঁড়িয়ে আবার সেই রকম এক বিদায়ের অনুষ্ঠানে।তবে এটা শুধু বিদায় নামক আনুষ্ঠানিকতা মাত্র।মন চাইছে না বলতে, তবুও বলতেই হচ্ছে-
" যেতে হবে বহুদূর
 তাই এই ছেড়া বাঁধন,
 বিরহ, ব্যাথা-কাতর
 মনে রয়েছে হাসি আর ক্রন্দন,
 আজ ছেড়ে চলেছি
সকল মায়ার সুশাসন,
 সম্মুখে দাঁড়িয়েছি দিতে তাই
   বিদায়ী ভাষণ।"
কেউই চায় না, তার জীবনের সেরা মুহূর্তগুলোর সমাপ্তি ঘটুক।কিন্তু সময় বড়ই নিষ্ঠুর।ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও প্রিয় মানুষগুলোকে বিদায় জানাতে হয়।তাদের সাথে কাটানো সেরা মুহূর্তগুলোকে বিদায় বলাটা যত সহজ, মন থেকে তা মেনে নেওয়া ঠিক ততটাই কঠিন।বিদায় শুধু তিনটি অক্ষর নয়, যেন বেদনার তিন তিনটি সাগর।তবু হাজার কষ্ট হলেও আমাদেরকে এই বিদায় মেনে নিয়েই আগামীর পথ চলতে হবে।কারণ ভালো কিছুর প্রাপ্তির জন্য অতীতের কিছু কিছু জিনিস ত্যাগ করেই বাস্তবতাকে মেনে নিতে হয়।
প্রিয় শিক্ষকমণ্ডলী,
মা-বাবা হয়তো জন্মসূত্রে সন্তানের অভিভাবক।কিন্তু আপনাদের অভিভাবকত্বের নেই কোনো সূত্র।দায়িত্ববান পিতা শিক্ষক ও শিক্ষিকার কাছে এসে নিশ্চিন্তে সন্তানের হাত ছেড়ে দেয়।আর আপনারা এই অচেনা-অপরিচিত সন্তানদের আপন করে নিন যতনে।নিজের সন্তানদের মতো করেই।আপনাদের সম্পূর্ণ ভালোবাসা,আদর-স্নেহ ও মায়া জড়ানো শাসন দিয়ে একজন আদর্শ মানুষ হিসাবে গড়ে তোলার প্রত্যেয়ে মগ্ন থাকেন প্রতিনিয়ত।তাই তো উইলিয়াম আর্থার ওয়ার্ড ( William Arthur Ward) এর ভাষাঃ
" The mediocre teacher tells,
  the good teacher explains,
  the superior teacher demonstrates,
  the great teacher inspires."
আমাদের শিক্ষকদের সম্পর্কে বলতে হলে সেরাটাই বলতে হবে, হয়তো এতেও কমতে রয়ে যাবে।কারণ তারা শুধু শিক্ষক নন, এক-একজন শৈল্পিক কারিগর।সত্যিই স্যার ও ম্যাডাম আপনাদের দায়িত্বশীল আচরণ, মার্জিত ব্যবহার ও সুশীল পাঠদানে মুগ্ধ হতাম প্রতিদিন।হাজারো প্রশ্ন, বুঝে না বুঝে বেয়াদবি, দুষ্টামি হতো প্রায়ই।কিন্তু আপনার বিরক্ত না হয়ে উপদেশমূলক বাক্যে বন্ধুর ন্যায় বুঝিয়েছেন আমাদেরকে।তাই আজ এই মহেন্দ্রক্ষণে দাঁড়িয়ে উপলব্ধি করতে পারছি "উৎসর্গ" নামক শব্দটাকে।বাগানের মালি যেমন শত কাঁটার ঘা সহ্য করেও সুন্দর ও সবাসিত ফুলের চারাগাছ চাষ করে।আর সেই চারা গাছ ছড়িয়ে দেয় হাজারো ফুলের সুবাস।সবাই তো চারাগাছের ফুল আর সুবাস পেয়েই মুগ্ধ।কেউ কি রাখে সেই মালির খবর? তেমনি আমাদের শিক্ষকরা অক্লান্ত পরিশ্রমে গড়ে তোলেন জাতির কর্ণদ্বারক, সমাজকে সুন্দর করে সাজানোর জন্য।কিন্তু এই মহান মানুষদের খবর নেয় না কেউই।তাদের ভূমিকা রয়ে যায় নীরবেই।সেই মানুষদের সাথে ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় অনেক ভুল করেছি, বেয়াদবি করেছি।তাদেরকে অনেক সময় ব্যাঙ্গ নামেও ডেকেছি।দয়া করে আমাদেরক ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।আমরা আজ সত্যি আমাদের অতীত কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত।
সম্মানিত অভিভাবকবৃন্তঃ
আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞতা এই যে, আপনারা সার্বিক সাহায্য ও সহযোগীতার মাধ্যমে গঢ়ে তোলেছেন সুন্দর এই ফুলের বাগান।যেখানে আপনাদের ইচ্ছানুযায়ী শিক্ষকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন মননশীল ও আদর্শ মানব গঠনে।আপনাদের কাছে আবারো কৃতজ্ঞতা জানাই, আমাদেরকে শিক্ষার জগতে পরিচিত করে দেওয়ার জন্য।আমরা নিজ নিজ অভিভাবককে সাময়িক হারিয়ে পেয়েছিলাম ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ মায়া জড়ানো, শাসন করা মানুষের মতো মানুষ গড়ার প্রত্যয়ের কারিগরদের।
প্রিয় সহপাঠীরা,
অচেনা-অজানা কতকগুলো মুখ কোথা হতে এষে একত্রিত হয়েছিলাম জানি না।ছিল না কোনো আত্মীয়তার বন্ধন, ছিল না কোনো পরিচিত জন, তবুও এই বন্ধনই যেন শ্রেষ্ঠ বন্ধন।কারণ এই বন্ধনই তো বন্ধুত্বের বন্ধন।জীবনে কত বন্ধু এসেছিল-আসবে, কিন্তু তোদের অভাব কেউই পূরণ করতে পারবে না।তোদের মতো এতো আপন আর কেউ হতে পারবে না।তোরাই হয়ে থাকবি জীবনের শ্রেষ্ঠ বন্ধু।আর তাই ছেড়ে যেতে চাই না তোদের।তবুও ছাড়তে হয়, কারণঃ
"এসে ভিড়েছে তরী, নাইতে হবে আরো
 যাইতে হবে যে, দূরের শহর।"
আজ বিদায় জানাতে হচ্ছে প্রিয় বন্ধুদের, নিষ্ঠুর এ সময় কেড়ে নিচ্ছে অতীতের সেরা আনন্দটুকুকেও।বন্ধু আর কখনো হবে না বলা; দাঁড়াবি কিন্তু একসাথে স্কুলে যাব, এই বেঞ্চটাতে একসাথেই বসবো, একসাথে হবে না আর তোদের ষাথে টিফিনে যাওয়া, হবে না আর একসাথে সেই ক্লাস ফাঁকি দেওয়া, আর হবে না ছোট-খাটো বিষয়ে হুড়াহুড়ি, মারামারি কিংবা মিলেমিশে পথ চলা, না এসব কিছুই আর কখনোই হবে না।কথাগুলো কেবল মনে পড়বে রোজই, কিন্তু সেটা পূর্ণতা পাবে না কখনো এই নির্মম বাস্তবতায়।তাই তো আজ ভেতরটা কেঁপে উঠছে প্রচলিত গানের ভাষাঃ
" কেন বাড়ল বয়স? ছোট্ট বেলার বন্ধুগুলো হারিয়ে যায়,
 হারাচ্ছে সব, বাড়াচ্ছে ভীর
হারানোর তালিকায়।"
না এই হারিয়ে যাওয়ার কোনো মানে নেই।এ হারিয়ে যাওয়া যে, সকলের সীমাহীন গন্তব্যে ছুটে চলা মাত্র।তাই তো আমি বিদায় শব্দটি বলতে চাচ্ছি না।তবুও আমরা যখন এশব্দের কাছে আজ আবদ্ধ, তখন তো বলতেই হচ্ছে- "যেতে নাহি দেব হায়, তবু যে যে যেতে দিতে হয়, তবু চলে যায়।"
বন্ধুরা মনে রেখো কিছু বন্ধুত্বের কখনোই সমাপ্তি ঘটে না।সেগুলো রয়ে থাকে মনের গহীনে, মিশে থাকে অতল হিয়ার মাঝে।তাই আমার হৃদয় স্পন্দনে ছুয়ে থাকা সকল বন্ধুদের বলছি বিদায় বন্ধু বিদায়।
স্নেহের ছোট ভাই ও বোনেরা,
" কি কথা বলিব আজ তোমাতে,
ভুলে গেছি সব কথা বিদায়-বিষাদে।।"
ইচ্ছা ছিল সবাই মিলেমিশে থাকবো একসাথে পরিবারের বন্ধনের মতো অটুট বন্ধনে।কিন্তু সময়ের টানে চলে যেতে হচ্ছে আমাদের।হয়তো বা তোমাদের উল্লেখযোগ্য তেমন কিছুই দিতে পারিনি।তবুও তোমাদের কাছ থেকে পেয়েছি অফুরন্ত সম্মান ও শ্রদ্ধা।তবে এশেষ মুহূর্তে তোমের উপদেশমূলক বাক্যই না হয় বলে যাই," স্যার-ম্যাডামদের সাথে কখনো বেয়াদবি করবে না, মন দিয়ে পড়াশু৭অ করবে, পরিবারের আশা ও স্বপ্ন পূরণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।এমন কোন কাজ করবে না যাতে পরিবার, এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা সমাজের সৌন্দর্য নষ্ট হয়।হয়তো তোমরাই হয়ে উঠবে আগামী দিনের শ্রেষ্ঠ কর্ণদ্বার। " চলার পথে যখন দীর্ঘ পথ চলা, তখন তো ভুল ও ক্রটি থাকবেই।আমাদের কোনো আচরণে যদি কষ্ট পেয়ে থাকো তাহলে মাফ করবে এবং আমাদের সফলতার জন্য দোয়া করবে।তোমাদের ভুল ও ত্রুটিও আমরা ক্ষমা করেছি, যদিও ছোটদের ভুল বলে কিছু হয় না।তবে তোমাদের সাথে থাকার ইচ্ছা ছিল, ভেবেছিলাম কবির কন্ঠে আমিও গাইবোঃ
" একসাথে আছি, একসাথে বাঁচি,
আজও একসাথে বাঁচব, সব বিভেদের
রেখা মুছে দিয়ে, সাম্যের ছবি আঁকবোই।"
ইচ্ছাগুলো অপূর্ণতায় রয়ে গেল।
হে মহান শিক্ষাঙ্গন,
"কত স্মৃতি-উল্লাস, হাসি মাখা দিন,
 মিশে আছে এখানে, প্রতিটি ইট-পাথর,
বেঞ্চ, ঘণ্টা সবার মাঝে আমাদের ভালোবাসা।
আজ ছাড়িতে হবে এসব, দিতে হবে বলি।
একি ব্যথায় রচিত হবে স্মৃতি, এ মাঠে হবে কি আর এভাবে ফেরা?
প্রিয় আলোয় তোমাতেই করি শেষ আরতি,
আমাদের যেন কখনো ভুলনা তুমি।"
পরিশেষে সবাইকে বলতে চাইঃ
Time and tide wait for none.
সময় ও স্রোত করো জন্য অপেক্ষা করে না।তাই তো প্রবল ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আমাদের করার কিছুই নেই।বাস্তবতার কাছে হার মেনে চলে যেতে হচ্ছে আরো একধাপ এগিয়ে।আমরা স্বপ্ন দেখছি দুর্নীতি মুক্ত ও সুন্দর মননশীল জাতি গঠনের।তাই এই অগ্রযাত্রা অনন্ত।সকলের কাছে আমাদের জন্য শুভ কামনা ও দোয়া প্রত্যাশা করে এবং শিক্ষকদের দীর্ঘ আয়ু কামনা করে আমার বক্তব্য এখানেই শেষ করছি।ধন্যবাদ সবাইকে, আসসালামু আলাইকুম।

998 questions

773 answers

11 comments

1.3k users

Welcome to WapMet.com, where you can ask questions and receive answers from other members of the community.

Categories

  1. MD Hasan Xhmed

    632 points

    71 answers

    111 questions

  2. Robiul

    420 points

    85 answers

    0 questions

  3. Azharul Islam Babu

    246 points

    27 answers

    15 questions

  4. Opurbobd

    219 points

    0 answers

    91 questions

3 Visitor is online
0 Member 3 Guest
Today visit : 1360
Yesterday visit : 1377
Total visit : 270189
All questions and answers published here are solely the responsibility of the respective questioners and answerers Any legal issue will not be borne by WapMet.com authority
...